counter

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করুন, স্বপ্নবাজ শিক্ষক তৈরি করুন

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল,২০২৬) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন , “আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষা। তাই শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতেই হবে তার কোনো বিকল্প নেই- শিক্ষামন্ত্রী (০৭ এপ্রিল, ২০২৬)

​”সরাসরি শিক্ষকদের মতামত জানতেই এত কষ্ট করে সারাদেশ ঘুরছি: শিক্ষামন্ত্রী (০৭ এপ্রিল, ২০২৬)

* ধরুন, আমাদের দেশে চতুর্থ শেণির একজন শিক্ষার্থীর ক্লাস চলাকালীন গায়ে মশা বসল। অমনি ছাত্রটি কাঠের স্কেল দিতে মশাকে আঘাত করতে গিয়ে ভেংগে গেল। সে ক্লাসে সবার সামনে লজ্জা পেল। বাড়ী ফিরে গরীব মা- বাবাকে বলায় তারাও বকা দিল। সে রাগে ক্ষোভে খাওয়া ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল। অথবা বাবা নতুন স্কেল না দেওয়ার অভিমানে আর তার লেখাপড়া বড় জোর পঞ্চম শ্রেণিতে শেষ করল।

শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করুন, স্বপ্নবাজ শিক্ষক তৈরি করুন

* এই একই ঘটনা চীনের কোন ছাত্রের হলে তার মাথায় চিন্তা আসতো ‘স্কেলটা কিভাবে সুপার গ্লু দিয়ে আবার জোড়া লাগানো যায়।’

* এই একই ঘটনা জাপানের কোন ছাত্রের হলে তার চিন্তা আসতো ‘স্কেলটা কিভাবে, কোন উপায়ে, কোন উপাদান দিয়ে তৈরি করলে এই পরিমান আঘাতে ভেংগে যেত না।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ৯৭% শিক্ষক সমাজ এখনও বেসরকারি, এটা বেমানান। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা নেই। আর যাই হোক খালি পেটে উচ্চ চিন্তা চেতনা, দক্ষতা ও স্বপ্ন আসে না। তাদেরকে স্বাধীনভাবে ও খোলামনে কাজের সুযোগ দিতে হবে। একমাত্র উচ্চতর চিন্তা চেতনার অধিকারী শিক্ষকবৃন্দ-ই পারেন শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চ চিন্তা চেতনার জগতে অবগাহন করাতে, দৃষ্টিভংগি বদলাতে ও তাদের মাঝে স্বপ্নের বীজ বুনতে।

এজন্য দরকার এ পেশাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে আকর্ষণীয় করা এবং সরকারি -বেসরকারি’ নামে ব্রিটিশ প্রথা তথা ‘ভাগ করো ও শোষণ করো’ নীতি পরিহার করে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা। তাহলেই দেশ পাবে মেধাবী, চৌকস ও স্বপ্নবাজ জনশক্তি এবং এদেশের স্থান হবে বিশ্ব দরবারে।

দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিচালিত ২১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে এক জনমত জরিপে ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ’ এর পক্ষে ৯৩ শতাংশ অংশীজন মতামত দেন।

প্রধানমন্ত্রী! খন্ড খন্ডভাবে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হচ্ছে। এতে পাহাড় সমান বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। যা জুলাই চেতনার পরিপন্থি। তাই অনতিবিলম্বে টিউশন ফিস সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে একযোগে ‘শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করন’ করে আপামর জনগণের চাহিদা পুরণ করবেন এ প্রত্যাশা রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *