counter

পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে দুটি কথা

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী SSC ও HSC পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে নেওয়ার জন্য জোর তাগিদ করেছিলেন। এটি খুব ভাল পদক্ষেপ। এজন্য তাকে স্যালুট জানাই। অবশ্য পরে রমজানের জন্য পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  পাবলিক পরীক্ষা কিভাবে তাড়াতাড়ি, ঝামেলাহীন ও সুশৃঙ্খলভাবে নেওয়া যায় এ বিষয়ে আমি ৭টি প্রস্তাব পেশ করছি। প্রস্তাবগুলো একান্তই ব্যক্তিগত, তাই কারো সাথে শতভাগ দ্বিমত থাকলে পারে।

প্রস্তাব-১: প্রতি বছর রমজানের ২০ দিন আগে SSC তত্তীয় পরীক্ষা শুরু করা। ১লা রমজান থেকে ১০ রমজান পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা। ১১ রমজান থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত HSC ব্যবহারিক পরীক্ষা। ঈদের ৩দিন পর HSC তত্তীয় পরীক্ষা শুরু হবে। পুর্বে CQ  আগে হতো পরে MCQ। এখন আগে MCQ  পরে CQ।  প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এভাবে পরীক্ষা নিলে কম প্রেসারে পুরা রমজান মাস কাজে লাগবে। আর প্রতি বছর অটোমেটিক ১১/১২ দিন আগাবে।

প্রস্তাব-২: SSC ও HSC পরীক্ষা একই দিন, একই সময়, একই হলে অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে ভেন্যু বেশি লাগবে। SSC ও HSC মিশ্রভাবে আসন বসাতে হবে। এতে সাইড টকিং বা দেখাদেখির হার কমবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই খাতার কভার ও প্রশ্নপত্র ভিন্ন ভিন্ন কালার রাখতে হবে। তাহলে পরীক্ষা পরিচলনা ব্যয়,  ব্যবস্থাপনা ও শ্রম সাশ্রয় পাবে। ১৯৯৬ সালের দিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম, ফাজিল ও কামিল এ পদ্ধতিতে নেওয়া হতো।

প্রস্তাব-৩: SSC ও HSC পরীক্ষা একই হলে শুরু হবে। শনি, সোম,বুধ SSC পরীক্ষা ও রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতি HSC পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ব্যবহারিকও এভাবে শেষ করতে হবে।

প্রস্তাব-৪: অভিন্ন প্রশ্ন আমাদের জন্য একটি সমস্যা। যেমন ২০২৪ সালে সিলেট বোর্ডে ইংরেজি পরীক্ষা হয়নি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আইসিটি পরীক্ষা হয়নি। আবশ্যিক বিষয় ছাড়াই একজন শিক্ষার্থী একটি পাবলিক পরীক্ষা পাশ করছে যা কাঙ্ক্ষিত না। এছাড়া কোন কারণে একটি কেন্দ্রে প্রশ্ন ফাঁস হলে, কোন এলাকায় বন্যা বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে সারা দেশে পরীক্ষার উপর একটি প্রভাব পড়ে।  অবশ্য জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষা  নিলে  প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে না তাই ‘অভিন্ন প্রশ্ন’ কোন সমস্যা নয়।  তবে অত্যধিক শীত হলে পরীক্ষা ১১ টায় শুরু করা যেতে পারে।

প্রস্তাব-৫: কোন শিক্ষার্থী ১বিষয়ে বা সর্বোচ্চ ২ পত্রে ফেল করলে ফল প্রকাশের ১ মাস পর ২ পত্র সকাল বিকাল পরীক্ষা নিয়ে    পুণ:নিরীক্ষণের ফলের সাথে প্রকাশ করা যেতে পারে। এ ব্যবস্থায় ১ দিনেই সব পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। এতে করে শিক্ষার্থীদের ১ বছর সাশ্রয় হবে।

প্রস্তাব-৬: যে বিষয়ে পরীক্ষার্থী সর্বোচ্চ, সে বিষয়ের পরীক্ষা আগে ও  সর্বনিম্ন সংখ্যক বিষয়ের পরীক্ষা সর্বশেষে অনুষ্ঠিত হওয়া। তাহলে প্রথম দিনে ২০% শিক্ষার্থী কমে যাবে, হল পরিচালনা ও হল নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। সঠিক উত্তরপত্র মূল্যায়নের স্বার্থে উত্তরপত্র গ্রহনের পরে পরীক্ষককে হলের দায়িত্ব থেকে মুক্ত করতে হবে।

প্রস্তাব- ৭: কোন কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে জমিয়ে না রেখে স্থগিত পরীক্ষা ঐ সপ্তাহের শুক্রবার বা ছুটির দিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। ২০০১–২০০৬ সময়কালে আমরা এমনটি দেখেছি।

উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণ করলে উর্ধতন কর্মকর্তাদের meeting, sitting, eating, billing  খরচ কম হবে এবং সময়, শ্রম ও রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় হবে।

পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে দুটি কথা
———————-
ড. মো: শরিফুল ইসলাম,
গবেষক ও কলামিস্ট, সিলেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *