counter

তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ-অনুদান ২০২৬, আবেদন যেভাবে

ব্যবসা করার ইচ্ছা আছে, কিন্তু অর্থের অভাবে উদ্যোগ শুরু করতে পারছেন না—এমন তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’-এর আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এক নজরে এই পোষ্টে কি কি থাকছে দেখে নিনঃ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে এ কর্মসূচির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আট জেলার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি চালু হচ্ছে। ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন শুরু হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এবং আবেদন করা যাবে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত।

এই কর্মসূচির বিশেষ দিক হলো—শুধু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নয়, বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকা তরুণরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করা যাবে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা কীভাবে দেওয়া হবে?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও প্রস্তাবিত ব্যয় পরিকল্পনা বিবেচনা করে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

সর্বোচ্চ অর্থায়ন হবে ২০ লাখ টাকা, যা ৫০:৫০ অনুপাতে ঋণ ও অনুদানে বিভক্ত। অর্থাৎ সর্বোচ্চ—

  • ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ

  • ১০ লাখ টাকা অনুদান

  • মোট সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা সমন্বিত অর্থায়ন

তবে প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

বিনা জামানতে উদ্যোক্তা ঋণ

এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, ঋণের বিপরীতে কোনো সহায়ক জামানত গ্রহণ ছাড়াই অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় অর্থের পাশাপাশি জামানতের সমস্যার কারণে যারা ব্যাংক ঋণ নিতে পারেন না, তাদের জন্য এটি একটি আলাদা সুযোগ তৈরি করছে।

তবে ‘বিনা জামানতে’ মানে এই নয় যে ঋণ পরিশোধের কোনো দায় নেই। ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে এবং অনুমোদিত ব্যবসায়িক কাজে অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

ঋণ পরিশোধ না করলে কী হবে?

এখানে একটি বিষয় আবেদনকারীদের বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা অর্থের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে, দেওয়া অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তরিত হবে।

অর্থাৎ অনুদানের অংশটি তখন আর অনুদান হিসেবে থাকবে না; তা ঋণে পরিণত হয়ে সরকারি পাওনা হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।

তাই শুধু অর্থ পাওয়ার জন্য আবেদন না করে বাস্তবে পরিচালনা করা সম্ভব—এমন ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়েই আবেদন করা উচিত।

কারা তরুণ উদ্যোক্তা ঋণ ও অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদন করার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর

আবেদনের শেষ তারিখে আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আবেদনকারীর বয়স ২৮ বছরের বেশি হলে তিনি এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হবেন না।

সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে

আবেদনকারীকে যে উপজেলার কর্মসূচির আওতায় আবেদন করছেন, সেই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা ধারণা থাকতে হবে

নিজস্ব ব্যবসা থাকলে সেটির তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে। আবার নতুন ব্যবসা শুরু করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকলেও আবেদন করা যাবে।

এমনকি এখনো ব্যবসা শুরু না করলেও বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলে সেটি আবেদন করার ভিত্তি হতে পারে।

কারা আবেদন করতে পারবেন না?

সব তরুণ এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় কিছু ক্ষেত্রে অযোগ্যতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

যেমন—

  • আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঋণ গ্রহণ করে থাকলে;

  • কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে;

  • সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে।

এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির অর্থায়নের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

কোন ধরনের ব্যবসার জন্য আবেদন করা যাবে?

এই কর্মসূচি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতের ব্যবসার জন্য নয়। বিভিন্ন ধরনের বৈধ ব্যবসায়িক উদ্যোগকে এর আওতায় বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • কৃষিভিত্তিক ব্যবসা

  • খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

  • মৎস্য ও পশুপালন

  • হস্তশিল্প

  • পর্যটন

  • সেবা খাত

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি

  • হালকা প্রকৌশল

  • প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ

  • অন্যান্য আইনসম্মত ব্যবসায়িক উদ্যোগ

অর্থাৎ আপনার একটি বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকলে সেটি এই কর্মসূচির আওতায় বিবেচিত হতে পারে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন শুরু কবে?

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।

আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

তাই যোগ্য তরুণদের শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তুত করে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোথায় আবেদন করতে হবে?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে।

আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়াটি উপজেলা পর্যায়ে পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলোর শাখাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু ঢাকায় গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই; কর্মসূচির আওতাভুক্ত সংশ্লিষ্ট উপজেলার ব্যাংক শাখার মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?

আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। নির্ধারিত আবেদন ফরমের সঙ্গে সাধারণত প্রয়োজন হবে—

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য/কপি

  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি

  • সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, যদি থাকে

  • সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণপত্র

  • ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা ব্যবসার ধারণার বিস্তারিত তথ্য

  • প্রস্তাবিত ব্যবসার জন্য কত টাকা প্রয়োজন এবং কী কাজে অর্থ ব্যয় হবে তার হিসাব

তবে আবেদন করার আগে নির্ধারিত ফরমে চাওয়া তথ্য ও কাগজপত্র ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

ব্যবসা না থাকলেও কি আবেদন করা যাবে?

হ্যাঁ, সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে ব্যবসা না থাকলেও নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বা ব্যবসায়িক ধারণা থাকলে আবেদন করা যাবে। তবে শুধু একটি সাধারণ ধারণা থাকলেই যথেষ্ট নয়; সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না, বাজারে এর সম্ভাবনা কতটা এবং অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শুধু টাকা নয়, প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিংও থাকবে

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু তরুণদের অর্থ দেওয়া নয়। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করা হবে।

কর্মসূচির আওতায় থাকছে—

আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ: অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।

মেন্টরের পরামর্শ: অভিজ্ঞ মেন্টরের কাছ থেকে ধারাবাহিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

ব্যবসায়িক পরিকল্পনা: ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে।

ব্যবসা নিবন্ধন: প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সহায়তা থাকবে।

বাজারসংযোগ: উদ্যোক্তাদের সম্ভাব্য বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে।

কোন কোন জেলায় প্রথম ধাপে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে?

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ৮টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

জেলাগুলো হলো—

  1. মানিকগঞ্জ

  2. ফেনী

  3. নওগাঁ

  4. ঝিনাইদহ

  5. ভোলা

  6. হবিগঞ্জ

  7. রংপুর

  8. নেত্রকোনা

প্রাথমিক পর্যায়ে এসব জেলার ৬৪টি উপজেলায় সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে?

এটি শুধু আবেদন করলেই অর্থ পাওয়ার কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নয়। আবেদনকারীর ব্যবসায়িক ধারণা, প্রকৃত প্রয়োজন এবং পরিকল্পনা যাচাই করে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে।

ব্যবসার ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, বাজারে এর সম্ভাবনা কী, অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং উদ্যোগটি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান তৈরিতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে—এসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের ব্যাংক শাখাগুলোর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তদবির বা মিথ্যা তথ্য দিলে কী হবে?

আবেদনকারীদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার জন্য তদবির করলে আবেদনকারী অযোগ্য বিবেচিত হবেন এবং আবেদন বাতিল হতে পারে। এছাড়া অসত্য তথ্য দেওয়া বা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

তাই আবেদন ফরমে নিজের তথ্য ও নিজের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাই সঠিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

বিষয়তথ্য
কর্মসূচির নামউদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন
বাস্তবায়নকারীবাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বোচ্চ অর্থায়ন২০ লাখ টাকা
সর্বোচ্চ ব্যাংক ঋণ১০ লাখ টাকা
সর্বোচ্চ অনুদান১০ লাখ টাকা
ঋণ-অনুদান অনুপাত৫০:৫০
সহায়ক জামানতপ্রয়োজন নেই
সর্বোচ্চ বয়স২৮ বছর
আবেদন শুরু১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আবেদনের শেষ তারিখ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রাথমিক পর্যায়৮ জেলার ৬৪ উপজেলা
নতুন ব্যবসার ধারণাআবেদন করা যাবে
মেন্টরিংরয়েছে
ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণরয়েছে
বাজারসংযোগরয়েছে

তথ্যগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নীতিমালা ও বাসসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের অনেক তরুণের ব্যবসা করার আগ্রহ থাকলেও শুরুতে মূলধন, ব্যাংক ঋণের সুযোগ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং বাজারসংযোগের অভাব থাকে। ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং ও ব্যবসায়িক সহায়তার বিষয় রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে নতুন ব্যবসার বাস্তবসম্মত ধারণা থাকা তরুণদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে অর্থায়ন নিশ্চিতভাবে পাওয়ার জন্য শুধু আবেদন করলেই হবে না; যোগ্যতা পূরণ, সঠিক তথ্য প্রদান এবং বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

তরুণ উদ্যোক্তা ২০ লাখ টাকা ঋণ-অনুদান: সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা কি সবাই পাবেন?

না। সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন ও ব্যয় পরিকল্পনা যাচাই করে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

২০ লাখ টাকার মধ্যে অনুদান কত?

সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দেওয়া হতে পারে।

এই ঋণের জন্য জামানত লাগবে কি?

কর্মসূচির নীতিমালা অনুযায়ী ঋণের বিপরীতে সহায়ক জামানত গ্রহণ করা হবে না

ব্যবসা শুরু করিনি, তবুও আবেদন করা যাবে?

হ্যাঁ। বাস্তবসম্মত নতুন ব্যবসায়িক ধারণা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থাকলেও আবেদন করা যাবে।

আবেদনের সময় বয়স কত হতে হবে?

আবেদনের শেষ তারিখে অর্থাৎ ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়স হতে হবে।

আবেদন করার শেষ তারিখ কবে?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন করার শেষ তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কোথায় আবেদন করতে হবে?

সংশ্লিষ্ট উপজেলার তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

কোন কোন উপজেলায় প্রথমে কর্মসূচি চালু হয়েছে?

প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ জেলার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি আরও এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

শেষ কথা

তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি উপজেলা পর্যায়ে নতুন একটি অর্থায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান বা ইতোমধ্যে ব্যবসার উদ্যোগ নিয়েছেন, তাদের জন্য প্রথম কাজ হলো নিজের যোগ্যতা যাচাই করা এবং একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করা। এরপর নির্ধারিত ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে।

আবেদন করার আগে সর্বশেষ নির্দেশনা ও ফরম বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত, কারণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও আবেদন গ্রহণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *