‘যুক্তির আলপনায় আঁকি মুক্তির ক্যানভাস’ স্লোগানকে সামনে রেখে যুক্তিনির্ভর ও সংলাপভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিবেটিং সোসাইটি (বিএনডিএস) হাজী এয়াকুব আলী ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করেছে “জাতীয় বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬”। সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতায় তরুণদের যুক্তি, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ থাকছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বারোয়ারি বিতর্কে প্রচলিত বিতর্কের মতো নির্দিষ্ট দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা না থাকায় প্রতিযোগীরা নিজেদের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীলতাকে স্বাধীনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিযোগিতায় সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা গ্রুপ ‘ক’, কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা গ্রুপ ‘খ’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা গ্রুপ ‘গ’তে প্রতিযোগিতা করবেন।
গ্রুপ ক’তে বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আমরা যদি না জাগি মা….’। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের দুই মিনিট সময়ের মধ্যে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। গ্রুপ খ”তে বিষয় ‘এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি’, যেখানে বক্তব্য উপস্থাপনের সময় দুই মিনিট ৩০ সেকেন্ড। আর গ্রুপ গ”তে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগীদের জন্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে….’। এ গ্রুপে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সময় থাকবে তিন মিনিট।
নির্ধারিত বিষয় ও সময় মেনে প্রতিযোগীদের ভিডিও ধারণ করে নির্ধারিত নিবন্ধন ফরমের [Facebook.com/bnds.org] মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে এবং একই সঙ্গে ভিডিও জমা দিতে হবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো নিবন্ধন ফি দিতে হবে না। নিবন্ধন ও ভিডিও জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
প্রতিযোগিতার প্রতিটি গ্রুপের প্রথম স্থান অধিকারী পাবেন পাঁচ হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী পাবেন তিন হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ক্রেস্ট ও সনদপত্র এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী পাবেন দুই হাজার টাকা সমমূল্যের বই, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। শুধু প্রথম তিন স্থান নয়, প্রতিটি গ্রুপে চতুর্থ থেকে দশম স্থান অধিকারী প্রতিযোগীদেরও বিশেষ সনদপত্র দেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক প্রতিযোগীর জন্য রয়েছে ডিজিটাল সনদপত্র। প্রতিটি গ্রুপের সেরা ১০ প্রতিযোগীর ভিডিও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিবেটিং সোসাইটির ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশ করা হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতা আরও বিকশিত হবে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বিশ্লেষণী চিন্তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে উঠবে।
বিএনডিএসের আয়োজকদের ভাষ্য, বিতর্ক কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি চিন্তার মুক্তি, যুক্তির অনুশীলন এবং সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তরুণদের যুক্তি, চিন্তা ও নেতৃত্বকে একত্রিত করে সচেতন, যুক্তিনির্ভর ও সংলাপভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিবেটিং সোসাইটির। আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সংগঠনটি তরুণদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বক্তৃতা, উপস্থাপনা ও বিতর্কচর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন আয়োজন করে আসছে।
লেখাপড়া বিডি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ

