সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবারো বড় সুখবর! দীর্ঘ ১৬ বছর পর সরকারিভাবে পুনরায় চালু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর, এবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) আগামী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর জন্য চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র কাঠামো ও নম্বর বণ্টন অনুমোদন করেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই নতুন কাঠামো অনুমোদন দিয়ে তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। আপনি যদি ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থী বা অভিভাবক হয়ে থাকেন, তবে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন, বিষয় এবং সময়সূচী বিস্তারিতভাবে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর নতুন নিয়ম ও আপডেট
দীর্ঘ দেড় যুগ পর বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হয়েছে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের পরীক্ষাটি পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষা এবং সময়ের ক্ষেত্রে আনা হয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম, যা শিক্ষার্থীদের জানা আবশ্যক।
২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নম্বর বণ্টন (Marks Distribution)
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ মোট ৪০০ নম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান ৫টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই নম্বর বণ্টন করা হয়েছে। নিচে টেবিলের মাধ্যমে সহজভাবে সম্পূর্ণ নম্বর বণ্টন তুলে ধরা হলো:
বিষয়ের নাম ও নম্বর বিভাজন টেবিল
| বিষয়ের নাম | বরাদ্দকৃত নম্বর | পরীক্ষার সময় |
| বাংলা | ১০০ নম্বর | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| ইংরেজি | ১০০ নম্বর | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| গণিত | ১০০ নম্বর | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| প্রাথমিক বিজ্ঞান | ৫০ নম্বর | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (যুগ্মভাবে) |
| বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | ৫০ নম্বর | ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (যুগ্মভাবে) |
| সর্বমোট নম্বর | ৪০০ নম্বর | মোট ৩টি শিফটে পরীক্ষা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত—এই তিনটি বিষয়ে প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে ১০০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকছে এবং প্রতিটি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা সময় পাবে আড়াই ঘণ্টা (২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট) করে। অন্যদিকে, প্রাথমিক বিজ্ঞান (৫০ নম্বর) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (৫০ নম্বর) এই দুটি বিষয়ের পরীক্ষা একসাথে অনুষ্ঠিত হবে এবং এই দুটি বিষয়ের জন্য সম্মিলিতভাবে সময় দেওয়া হবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
পরীক্ষার সময়সূচী ও প্রশ্নের ধরন কেমন হবে?
অনুমোদিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পরীক্ষা প্রধানত যোগ্যতাভিত্তিক বা সৃজনশীল এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও বহুনির্বাচনী (MCQ) প্রশ্নের সমন্বয়ে হতে পারে।
আলাদা শিফটে পরীক্ষা: যেহেতু প্রধান তিনটি বিষয়ের জন্য আড়াই ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ, তাই পরীক্ষাগুলো বিভিন্ন দিনে বা আলাদা শিফটে অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞান ও বাউবি পরীক্ষা: প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষাটি একই প্রশ্নের আওতাভুক্ত হতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা দুই বিষয়ের উত্তর দেওয়ার জন্য মোট আড়াই ঘণ্টা সময় পাবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে
বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেতে হলে এখন থেকেই সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
মূল বইয়ের ওপর জোর দেওয়া: পঞ্চম শ্রেণীর বোর্ড নির্ধারিত মূল বইয়ের (NCTB Books) প্রতিটি অধ্যায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়তে হবে।
বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে অ্যানালাইসিস করতে হবে।
সময় সচেতনতা: আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ১০০ নম্বরের উত্তর শেষ করার জন্য বাড়িতে নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
শেষ কথা
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর প্রশ্নপত্র কাঠামো ও নম্বর বণ্টন চূড়ান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এখন আর সিলেবাস নিয়ে কোনো সংশয় থাকার কথা নয়। নিয়মিত পড়াশোনা এবং সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে এই পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সাজেশন, রুটিন এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্রের সমাধান সবার আগে পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের LekhaporaBD.net ওয়েবসাইটে। এই পোস্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই সহপাঠী ও অভিভাবকদের সাথে শেয়ার করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাতে পারেন।
লেখাপড়া বিডি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ


