statistics

চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করবেন যেভাবে

আপনি কি আপনার প্রতি মাসের খরচ যোগানের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে চান, কিন্তু খুব ভালো বেতনের চাকুরির নিশ্চয়তা ছাড়া কম বেতনের চাকুরি ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন?

আপনি কি আপনার চাকুরির জীবনবৃত্তান্তে(resume) অভিজ্ঞতার অভাব বোধ করছেন, কিন্তু জানেন না কিভাবে আপনার চাকুরির জীবনবৃত্তান্তে অভিজ্ঞতার ঘর পূরন করবেন?

অথবা, আপনি কি ৯-৫ টার চাকুরি নিশ্চয়তার বদলে যে কাজে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পান সেই কাজ করতে আগ্রহী?

তাহলে আপনার জন্য রয়েছে সুখবর এবং এতে আপনার প্রচণ্ড ভাগ্যের জোর অপ্রয়োজনীয় ও আপনাকে এমন কোন খারাপ কাজ করতে হচ্ছে না, যা আপনাকে প্রচণ্ড বিপদের মুখে ফেলে দেবে।

হ্যাঁ, আমি ফ্রিল্যান্সিং এর কথা বলছি। আপনার অন্যান্য বড় ও প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি ছোট পরিসরের ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন।

যদিও ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা আয়ের জন্য প্রচণ্ড পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার প্রয়োজন পরে, কিন্তু ভালো খবর হল আপনি একা নন; বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় অনেক যুবক/যুবতী ফুল টাইম জবের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করে তাদের শখ-আহ্লাদ মেটাচ্ছে।

কিন্তু কিভাবে আপনি আপনার ফুল টাইম জবের পাশাপাশি, যিনি আপনাকে টাকা দেবে তার বকা না খেয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আয় করবেন?

একদমই চিন্তার কোন কারণ নেই। শুধুমাত্র আপনাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা আজকে এমন সাতটি ধাপের কথা বলব, যা আপনাকে বাসায় মানিব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে এবং অফিসের বসকে খুশি রেখে আপনার ক্যারিয়ারের উন্নয়নে আপনাকে কৌশল অবলম্বন করতে শেখাবে।

০১) আপনার চুক্তিপত্র দেখুন

চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার কর্মরত কোম্পানির সাথে হওয়া চুক্তিপত্রটি ভালো করে দেখুন। কেননা কিছু কোম্পানি অফিসের বাইরে অন্য কোন কাজ করা বা ঐ কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় অন্য কোন ব্যাক্তির অধীনে কাজ করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে এবং সেভাবেই তাদের চুক্তিপত্র সাজিয়ে থাকে। তাই সেই চুক্তিতে উল্লেখিত বিধি নিষেধ লঙ্ঘন করলে কোম্পানি আপনাকে চাকুরিচ্যুত করতে পারে। তাই সর্বপ্রথমে আপনি আপনার চুক্তিপত্রটি ভালোভাবে দেখুন।

২) সৎ থাকুন

আপনি ভাবতেই পারেন যে, কোম্পানি বা কোম্পানির অন্য কোন কর্মকর্তার কাছ থেকে আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয় গোপন রাখতে পারবেন। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপকতা, বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এমনকি অন্য কোন কর্মকর্তার পরিচয়ের কারনে আপনার কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের হয়ে যেতে পারে। যা আপনার ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আপনার কোম্পানির নিয়মাবলী আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর পথে বাঁধা হয়ে নাও দাঁড়ায় তারপরেও আমাদের পরামর্শ থাকবে সততা অবলম্বনের। তাই আপনি আপনার বসের সাথে একটি মিটিং ফিক্স করুন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর কারনে কোম্পানির কাজে ব্যাঘাত না ঘটার আশ্বাস দিন।

আপনি আপনার বসকে এটি বলতে পারেন- ❝আমি আমার কোম্পানির কাজের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং প্রোজেক্টে কাজ করার মাধ্যমে আমার কিছু বাড়তি খরচের যোগান দিতে চাচ্ছি। এবং এই কাজের জন্য আপনার অনুমতি এবং সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি এই কাজটি পুরোপুরি আমার অবসর সময়ে করব যেন কোম্পানির কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।❞

০৩) কি ধরনের ফ্রিল্যান্সিং করতে চাচ্ছেন বলুন

অফিসে কাজের পাশাপাশি আপনি কি ধরনের ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে চাচ্ছেন সেটা আপনার বসকে জানান। অতিরিক্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই; আপনার ক্লাইন্টের নাম, কাজের উপাদান বা ফ্রিল্যান্সিং থেকে আপনার আয়ের পরিমান গোপন রাখুন। আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ ও আপনার কোম্পানির কাজ যদি একই ধরনের হয় তাহলে কোম্পানির ব্যাবসা সংক্রান্ত সকল কাজের প্রতি সম্মান রেখে এবং কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ ক্লাইণ্টের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করলে এবং আপনার কাজের ধরন সম্পর্কে আপনার বসের কাছে সৎ থাকলে কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।

০৪) কাজের ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এর উপকারিতার উপর আলোকপাত

আপনি যে ধরনের কাজ ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে বেছে নিতে চান শুধুমাত্র সে ব্যাপারে বসকে না বলে, ফ্রিল্যান্সিং এর বহুমুখী উপকারিতার কথা উপস্থাপন করুন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে সম্ভাব্য আপনার ভবিষ্যত উন্নতি সম্পর্কে বলুন। ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কিভাবে আপনার বস আপনার সহ কর্মকর্তা তথা প্রতিষ্ঠানটির উপকার হতে পারে সে সম্পর্কে আলোকপাত করুন।

ইন্টারনেটে তথা সকল প্রকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অযথা বিচরনের তুলনায় বা নাটক-সিনেমা দেখে মূল্যবান অবসর নষ্ট করার তুলনায় প্রোডাক্টিভ কিছু করার প্রচেষ্টা অবশ্যই আপনার সম্পর্কে আপনার বসের ইম্প্রেশন উন্নত করবে।

ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য আপনার বিভিন্ন ধরনের স্কিলে দক্ষতা বর্তমানে আপনার এবং আপনার কোম্পানির জন্য কতটা উপকারী হতে পারে তা নিয়ে আপনার বসের সাথে কথা বলুন।

০৫. সম্পূর্ণ মনযোগের সহিত কাজ

স্বাভাবিকভাবেই নতুন কোন কাজ-যেটা পছন্দের, করার সময় আমরা যথেষ্ট উত্তেজিত হয়ে পরি। যার ফলে অনেকসময় উত্তেজনার বশে আমরা আমাদের কাজটুকুতে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে ব্যার্থ হই এবং আমাদের মনোরাজ্য বিক্ষিপ্ত হয়ে পরে।

ভালো কিছু পাওয়ার জন্য বা ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের মানসিক উত্তেজনা একদম স্বাভাবিক। তাই, নতুন কাজের প্রতি আপনার অবাধ আকর্ষণ এবং আপনার বসের পক্ষ থেকে উৎসাহ থাকলেও আপনাকে আপনার কাজে শতভাগ বা সম্ভব হলে আরও বেশি মাত্রায় মনোনিবেশ করতে হবে। অফিসের ক্ষেত্রে সময়ের হেরফের না করা, আপনার সহকর্মীর সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং কোম্পানির প্রতিটি কাজে যথাযথ উদ্যোমের সহিত অংশগ্রহণ করতে হবে।

০৬. আপনার ফ্রিল্যান্সিং ব্যাক্তিগত সময় ও পরিসরের মধ্যে রাখুন

চেষ্টা করুন যেন আপনার ফ্রিল্যান্সিং কাজের সময়, আপনার কোম্পানির কাজের সময়ের অস্তিত্ব নষ্ট না করে। দিনের বেলায় আপনি সচারাচর যে সময়টায় আপনার অফিসের কাজ করেন সে সময়ে অফিসিয়াল কাজের ফাঁকে ফ্রিল্যান্সিং করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য দিনের অন্য সময় নির্ধারণ করুন যে সময়টায় আপনি অবসরযাপন করেন বা বৃথা সময় নষ্ট করেন। যেমন, ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যখন কোন পুরুষ অন্য নারীর সাহচর্য কামনা করে তখন সেই পুরুষ স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা দু দিক সামলাতে হিমশিম খায় এবং দু দিক থেকেই কাঙ্ক্ষিত সুখ লাভে ব্যার্থ হয়। ঠিক তেমনই হতে পারে আপনার কাজের ক্ষেত্রে।

অফিসে ব্যাবহার হয় এমন কোনো ল্যাপটপ, স্ক্যানার, কাগজ বা স্ট্যাপলার ফ্রিল্যান্সিং এর কাজে ব্যাবহার করা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। কেননা দিনশেষে এই ধরনের উপাদানগুলি আপনার অফিসের সম্পত্তি। ব্যাক্তিগত কাজে এই ধরনের উপাদানগুলোর ব্যাবহার আপনার কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই, আপনার জন্য আমাদের প্রদত্ত মত এই হবে যে, যতটা বেশি সম্ভব আপনার অফিসিয়াল কাজ এবং ফ্রিল্যান্সিং কাজ একই মাঠে নেবেন না অর্থাৎ একটার সহিত আরেকটার মিশ্রণ ঘটিয়ে জিনিসটাকে বারোভাজা বানাবেন না। কারন সকল পরিস্থিতি বারোভাজা ভক্ষনের পক্ষ নেয় না।

০৭. ফ্রিল্যান্সিং করার সময়টুকু পুরোপুরি কাজে লাগান

আপনি যে সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন সেই পুরো সময়টা ফ্রিল্যান্সিং এর কাজেই ব্যাবহার করার চেষ্টা করবেন। এতে করে অফিসে যাওয়ার সময় বাসে বা অফিসের চেয়ারে আপনার ফ্রিল্যান্সিং প্রোজেক্টের কথা চিন্তা করে চুল ছিঁড়তে হবে না। এতে করে আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ আপনি আপনার অফিসিয়াল কাজের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করতে পারবেন।

সকালে একটু জলদি ঘুম থেকে ওঠা, একটু বেশি সময় ধরে রাত জাগা, আপনার ছুটির দিন বা আপনার অবসর সময় ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য বেছে নিতে পারেন।

এবং আপনি আপনার সময়ের প্রতিটি মিনিট প্রতিবার খুব যত্ন সহকারে নিজের উন্নতির জন্য ব্যাবহার করতে পারেন। নিজের ঘাড়ে সাধ্যাতিরিক্ত কাজ না নেওয়া, যত্ন সহকারে পরিকল্পনা সাজানো, সময়ের কাজ সময়ে করা উদ্দেশ্য পূরনের লক্ষ্যে মনোনিবেশ করার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। এবং নিজের ভেতর এই অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে সফল হবেন এবং ভালো অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবেন, আপনার অভিজ্ঞতার গাছ ফলে ভরে উঠবে এবং ভবিষ্যত ও বর্তমানে সমাজে একটি সম্মান জনক অবস্থান নিশ্চিত করা তুলনামূলক সহজ হবে।

পোষ্টটি লিখেছেন: Niloy

এই ব্লগে এটাই Niloy Pal এর প্রথম পোষ্ট.

Blogger

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *