statistics

উদ্ভট উটের পিঠে চলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেশন জট কমানোর নামে মেধার অবমূল্যায়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার গোপন ষড়যন্ত্র করছে। যা তাদের পূর্ববর্তী কয়েক দিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

সরকারি কলেজসমূহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কুক্ষিগত না রেখে এসকল কলেজে পড়ুয়া লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর দুর্দশা লাঘব ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন সকল সরকারি কলেজসমূহ দ্রুত পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীনে নিয়ে এর যথাযথ মানোন্নয়নের জন্য।

এই সংবাদ প্রকাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য কিছু উদ্ভট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যা মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এবং ভর্তিচ্ছু সকল ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতকেই প্রকারান্তে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।

তারা সেশন জট কমানোর নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে। যা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কখনোই মেনে নেবে না।

জাবি কর্তৃপক্ষ ক্রাশ কোর্সের নামে চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থী ভাই ও বোনদের ভবিষ্যতকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং দেশের সামগ্রীক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দোরগোড়ায় ঠেলে দিতেই তারা এখন শুধুমাত্র জিপিএ’র মাধ্যমে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে চায় (দৈনিক যুগান্তর : ২৬/০৫/২০১৫)।

সেশন জট কমানো বা ক্রাশ কোর্সের ধোয়া তুলে শুধুমাত্র জিপিএ’র মাধ্যমে ভর্তি করানোর মতো অন্যায্য দাবি কোন মুক্ত চিন্তার মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারন আমাদের দেশে প্রচলিত বহুমূখী (সাধারণ, মাদ্রাসা, কারিগরি, ইংরেজি মাধ্যম ও অন্যান্য) শিক্ষা ব্যবস্থা একই সাথে থাকার কারনে এই পদ্ধতি ১০০ ভাগ ত্রুটি পূর্ণ। এছাড়া শহর ও গ্রমের বা মফস্বলের শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে রয়েছে চরম বৈষম্য। কারণ গ্রামে বা মফস্বলে ভালো মানের কলেজ বা শিক্ষক দুটোরই অভাব রয়েছে এবং এর সাথে যোগ হয় চরম অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাও। এর ফলে শহরের তুলনায় জিপিএ ৫.০০ এর সংখ্যা গ্রামের কলেগুলোতে অতি নগন্য হারে লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই জিপিএ ৫.০০ এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয় না যে গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা কম মেধা সম্পন্ন। তার বড় উদাহরণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যেখানে শহরের ছাত্রছাত্রীদের সাথে তারাও পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এত প্রতিকূলতা থাকা স্বত্তেও তারা তাদের প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ লাভ করতে পারছে শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষা থাকার কারণে নাহলে তারা অংকুরেই ঝরে যেত। সবথেকে বড় কথা শুধুমাত্র জিপিএ’র মাধম্যে ভর্তি সমাজের কোন স্তরের মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর এ কারণেই জিপিএ’র ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পরীক্ষিত পুরনো পথেই ফিরে এসেছে।

তাই বলব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেন হঠকারী সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে পূর্বের মতো জিপিএ এবং ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ে অনার্স ১ম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে। আসলে সেশন জট দূর করার নামে দ্রুত চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা গ্রহণ ও শুধুমাত্র জিপিএ’র মাধ্যমে অনার্সে ভর্তি করা এগুলো শুধুই আইওয়াশ মাত্র। তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্যই এসকল উদ্ভট কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে।

আকূল আবেদন, অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তটি বাতিল করুন। নাহলে আমাদের মতো গ্রামের ও মফস্বলের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের শেষ আশ্রয়স্থল থেকে আমরা বঞ্চিত হব।

তাই জাবি নিকট পুনরায় আর্জি বিগত সালের ন্যায় জিপিএ ও ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিটি বহাল রাখতে আপনার একান্ত মর্জি হয়।

পোষ্টটি লিখেছেন: Shuvo Akon

Shuvo Akon এই ব্লগে 3 টি পোষ্ট লিখেছেন .

Leave a Reply

Your email address will not be published.