১৯৯৬ সালের কথা। তখন আমি দ্বাদশ শ্রেণীতে। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় এক বন্ধু বললো “ধরো, একটি জেলা শহরের জিরো পয়েন্টে একই সময়ে একই মুহুর্তে একদিক থেকে ১টি সেনাবাহিনীর গাড়ী, অপরদিক থেকে ১টি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী, আরেকদিক থেকে ১টি মরণাপন্ন রোগীর VIP এম্বুলেন্স এলো। তাহলে, ট্রাফিক পুলিশ কোনটি আগে ছাড়বে?”
আমি উত্তর দিতে পারিনি। তবে এক বন্ধু বলল, VIP এম্বুলেন্স । আসলে সে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঠিকই উত্তর দিয়েছিল। পরে প্রশ্নকারী বন্ধুটি ব্যখ্যা করল, ” VIP এম্বুলেন্স একটু দেরীতে ছাড়লে বড়জোর একজন লোক মারা যাবে, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী একটু দেরীতে ছাড়লে বড়জোর একটি গ্রাম পুড়ে যাবে, কিন্তু সেনাবাহিনীর গাড়ী একটু দেরীতে ছাড়লে একটি দেশ ধ্বংস হতে পারে।”
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! অনেক বিষয়ই আপাত দৃষ্টিতে কম গুরুত্তপূর্ণ মনে হলেও সেটিই আসলে বেশি গুরুত্তপূর্ণ। প্রতিবছর কোন না কোন শিক্ষক None MPO অবস্থায় অবসর নিচ্ছেন। এখানে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা থাকতে পারে কিন্তু তারতো ব্যর্থতা ছিলো না। সংবাদটি যে কোন হৃদয়বান ব্যক্তিকে মর্মাহত কর-বেই । এ পেশায় আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় প্রতিবছর Brain drain হয়ে বাংলাদেশ মেধা শূণ্য হচ্ছে।
পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম বাণীতে নামাজ-রোজার কথা আগে আসেনি; এসেছে শিক্ষার কথা। এসেছে ‘ইক্করা’ অর্থাৎ পড়ো। স্রষ্টা বিশ্বভুবনের জীবের জন্য সবচেয়ে দরকারী উপাদান আলো, বাতাস, পানি ও অক্সিজেন সবই ফ্রি দিয়েছেন। আলোকিত জাতি গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান শিক্ষাকেও জাতীয়করণ করতে হবে এটাই যৌক্তিক।
চীন, জাপান, আমেরিকা, ফ্রান্স এরা মুসলিম রাষ্ট্র না হলেও তারা শিক্ষার গুরুত্ব বেশি দিয়ে তাদের আসন আজ বিশ্ব দরবারে । তাই গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অবশ্যই ‘শিক্ষা জাতীয়করণ’ করতে হবে এবং তা যতশীঘ্র তত মঙ্গল।

লেখকঃ ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
গবেষক ও কলামিস্ট , সিলেট
লেখাপড়া বিডি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ

