counter

টেকসই উন্নয়নে মাঠ-গবেষণায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

হাফেজা খানম, স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষাকে কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠ-পর্যায়ের গবেষণায় অংশ নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল এডুকেশন (GED) কোর্সের অন্তর্ভুক্ত “Live in Field Experience” কর্মসূচির আওতায় ২১ মে ২০২৬ তারিখে একদল শিক্ষার্থী দিনব্যাপী একটি নিবিড় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। গবেষণার স্থান ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাদুঘর ঋষি পাড়া ও বর্মণ পাড়া।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, সামাজিক বাস্তবতা, পরিবেশগত সংকট এবং সম্ভাবনাগুলোকে সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুধাবন করা। শিক্ষার্থীরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়, তথ্য সংগ্রহ এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management) এবং উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব কীভাবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়।

মাঠ-গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বাস্তবমুখী এই অভিজ্ঞতা তাঁদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং গবেষণার দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। তাঁরা মনে করেন, সমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলোকে কাছ থেকে দেখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধান তৈরিতে তারা আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এ ধরনের গবেষণামূলক কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সমাজকে আলোকিত করার কেন্দ্র। মাঠ-পর্যায়ের গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।”

তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ গবেষণা স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ুক শ্রেণীকক্ষ থেকে সমাজের প্রতিটি জনপদে—এই প্রত্যাশাই এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *