counter

ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর বিজয়ীদের সম্মাননা দিল ব্রিটিশ কাউন্সিল

ঢাকার লা মেরিডিয়েন হোটেলে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্কুলের ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতায় গ্রুপ ‘এ’-তে (নবম ও দশম শ্রেণি) বিজয়ী হয়েছে সিলেটের সরকারি অগ্রগামী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উমাইজা রামিন উমামা। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি-তে (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) বিজয়ী হয়েছে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের জাইমা চৌধুরী।

ESC 2

গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেওয়া অন্য শিক্ষার্থীরা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগং গ্রামার স্কুল ন্যাশনাল কারিকুলাম, স্কলারসহোম মেজরটিলা, নেভি অ্যাঙ্করেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, মাইলস্টোন কলেজ, উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জালালাবাদ ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ -এর শিক্ষার্থী।

তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইংরেজিতে নিজেদের ভাবনা কার্যকরভাবে প্রকাশে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত ৪০টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে তারা পাবলিক স্পিকিং এর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর বিজয়ীদের সম্মাননা দিল ব্রিটিশ কাউন্সিল

এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘যোগাযোগের দক্ষতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ কাউন্সিলে আমরা শুধু পড়াশোনায় ভালো ফলের ওপর গুরুত্ব দিই না, কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়, সেটিও শেখাই। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ এবং কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সফলতা অর্জনে আমরা স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করি।’

প্রতিযোগিতাটি তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলো প্রাথমিক পর্ব আয়োজন করে। এরপর ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে প্রতিযোগিতাটির বিভাগীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা ২০ জন গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেয়। তাঁদের মধ্যে ঢাকা থেকে ১০ জন এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে পাঁচজন করে ছিল।

গ্র্যান্ড ফিনালেতে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া একটি বিষয়ের ওপর দুই মিনিটের বক্তৃতা দিতে হয়। মোট ৫০ নম্বরের মধ্যে পাঁচটি সমান গুরুত্বের মানদণ্ডে তাদের বক্তব্য মূল্যায়ন করা হয়।

মানদণ্ডগুলো হলো বক্তব্যের বিষয়বস্তু, সুস্পষ্ট কাঠামো, চিন্তার যৌক্তিক বিন্যাস, বিষয়ের সঙ্গে বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা এবং উদাহরণ ও বিষয় সম্পর্কে ধারণা।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাস্টার ট্রেইনার এবং টোস্টমাস্টার্স ইন্টারন্যাশনালের বিচারকেরা প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, পাবলিক স্পিকিং এবং কার্যকর যোগাযোগের বিষয়ে তাঁদের রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হেড অব মার্কেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘দুই মিনিটের বক্তৃতা দীর্ঘ বক্তৃতার ছোট সংস্করণ নয়, বরং আরও কঠিন। এমন ধরণের বক্তৃতাই মানুষ মনে রাখে। আজকের গ্র্যান্ড ফিনালেতে শিক্ষার্থীরা মাত্র দুই মিনিটে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরে নিজেদের পাবলিক স্পিকিং-এর দক্ষতা দেখিয়েছে। তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে ব্রিটিশ কাউন্সিল সব সময় এ ধরনের সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।”

ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, ইংলিশ অ্যান্ড এক্সামস বিভাগের পরিচালক তাহনী ইয়াসমিন বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রমের স্কুলগুলোর সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। আমরা দেখেছি, এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা বড় মঞ্চে ভালো করেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে এবং এত বছর ধরে তারা যে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তার সঙ্গে যুক্ত হতে গত বছর আমরা এ ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতা শুরু করি।”

গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিভিন্ন স্কুলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, টোস্টমাস্টার্সের সদস্য, পাবলিক স্পিকিং প্রফেশনালস, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *