৭১ জন মাদ্রাসা শিক্ষক ও ২ জন ফ্যাকাল্টি সদস্য এখন ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রশিক্ষিত ইংরেজির শিক্ষক প্রশিক্ষক

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বিএমটিটিআই) ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের (টিএমইডি) সাথে অংশীদারিত্বে ছয় দিনব্যাপী এক আবাসিক ‘ট্রেইনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) প্রোগ্রাম আয়োজন করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এ প্রোগ্রামে দেশের নয়জন শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি ভাষা শিক্ষাদান (ইএলটি) বিশেষজ্ঞের পরিচালনায় ২৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মাদ্রাসা থেকে ৭১ জন শিক্ষক ও ২ জন ফ্যাকাল্টি সদস্যকে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তারা নতুনভাবে তৈরি করা শিক্ষক প্রশিক্ষণ মডিউল বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এ উদ্যোগের ফলে প্রশিক্ষক সংখ্যা ২ জন থেকে বেড়ে ৭3 জনে-এ উন্নীত হয়েছে, যা প্রশিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (বিএমটিটিআই) অনুষ্ঠিত হয়।

এই আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের (টিএমইডি) মধ্যে চলমান বৃহত্তর অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাদ্রাসা শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ অংশীদারিত্ব শুরু হয়েছিল, যা চলবে এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সরাসরি  প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে মাস্টার ট্রেইনাররা ১২ সপ্তাহব্যাপী ‘লার্নিং পাথওয়ে টু অ্যাসিওরড সার্টিফিকেট ইন টিচার এডুকেশন (এলপিএসিটিই)’ শীর্ষক একটি অনলাইন কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন । এ কোর্স যুক্তরাজ্যের সিটি অ্যান্ড গিল্ডস কর্তৃক স্বীকৃত। এরপর তারা গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছয় মাসব্যাপী
‘কমিউনিটি অব প্র্যাকটিস’ (সিওপি) ফোরামে অংশ নেন। এ সময় তারা আত্ম-অনুশীলন, অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্রাসঙ্গিক জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে শিখন প্রক্রিয়ায় সাথে যুক্ত ছিলেন। সদ্য সমাপ্ত আবাসিক প্রশিক্ষণটির মূলত ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন শিক্ষক প্রশিক্ষণ মডিউলের বাস্তব প্রয়োগ এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিএমটিটিআই কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন মডিউলের কপি হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “বিএমটিটিআই সত্যিকার অর্থেই একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এতো সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে এক লক্ষাধিক শিক্ষকের জন্য মানসম্পন্ন ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করবে? এর উত্তর হলো, বিদ্যমান প্রশিক্ষক কাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি সম্প্রসারণযোগ্য ব্যবস্থা গঠন করা। আজ আমরা সেই উত্তরটি এখানেই দেখতে পাচ্ছি। ৭৩ জন নিবেদিতপ্রাণ মাস্টার ট্রেইনার এখন এই প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করতে এবং দেশজুড়ে এর সুফল আনয়নে প্রস্তুত রয়েছেন।”

অনুষ্ঠানে টিএমইডি সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এই অংশীদারিত্বের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এ অংশীদারিত্বকে বাস্তবে রূপ নিতে দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত। বিএমটিটিআই’র মাস্টার ট্রেইনারদের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইএলটি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে পারা ছিল একটি সুবর্ণ সুযোগ। আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের সাথে ভবিষ্যতে আরও এমন অংশীদারিত্বের অপেক্ষায় আছি।”

বিএমটিটিআই’র অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদুল হক প্রোগ্রামের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, “এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিঃসন্দেহে আমাদের শিক্ষকদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে”। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি সেফগার্ডিং ম্যানেজার আকলিমা আক্তার সুরক্ষা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিলের টিম লিড ফর ইংলিশ অ্যান্ড স্কুল এডুকেশন শমরেশ সাহা তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রকল্পটি ব্রিটিশ কাউন্সিল ও সরকারি খাতের অংশীদারিত্বের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা আরও নানা ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে আগ্রহী”।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হাবিবুর রহমান, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বিএমটিটিআই’র উপাধ্যক্ষ ড. মো. নুরুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) গাজীপুর মোহাম্মদ সোহেল রানা এবং বিএমটিটিআই এর শিক্ষক গোলাম কুদ্দুস। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ইংরেজি প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাহেলী জামিলা নাজ এই প্রকল্প পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *