বিইউবিটিতে বাজেটবিষয়ক আলোচনাঃ জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে কর্মসংস্থান ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) (বিইউবিটি) অনুষ্ঠিত হলো উপাচার্য বক্তৃতা সিরিজের বিশেষ সেশন ২৭শে জুলাই, ২০২৫, রবিবার।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জাতীয় বাজেট: সমতা, কর্মসংস্থান ও বাস্তবায়নের দৃষ্টিকোণ’। এতে বাজেট বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনায় দেশের অর্থনৈতিক নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বক্তারা।রবিবার অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, ‘জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইক্যুইটি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া।’

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, ‘১ জুলাই থেকেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের জন্য তহবিল প্রস্তুত রাখা উচিত এবং তা মানসম্মতভাবে ব্যয় করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে সব স্নাতক কোর্সে ‘এআই, আইওটি, ব্লকচেইন ও মেশিন লার্নিং’–এর ওপর অন্তত একটি বাধ্যতামূলক কোর্স চালুর আহ্বান জানান।বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. শওকত আলী বলেন, ‘শিল্প প্রবৃদ্ধি ও শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় বাজেট হচ্ছে দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নীতিনির্ধারণী দলিল।’

আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. শান্তি নারায়ণ ঘোষ বলেন, ‘জাতীয় বাজেট দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলন করে।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি বাজেটের নানা দিক বিশ্লেষণ করে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনার প্রসার ঘটান।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এ. কে. এনামুল হক বলেন, ‘বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে বাজেট তৈরি হওয়া উচিত। শিক্ষা বাজেটে হজ্ব, খেলাধুলা বা পারমাণবিক খাতের খরচ একত্রে ধরা কতটা যৌক্তিক, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘এনবিআরের কার্যক্রম দু’ভাগে ভাগ করা জরুরি—একটি নীতি প্রণয়ন করবে, অন্যটি বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি তিনি কর ফাঁকি, ব্যাংকিং খাতের উচ্চ সুদহার, দুর্নীতি এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযোগী বাজেট তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।’তিনি আরও বলেন, গবেষণা ও উন্নয়নের ওপর নির্ভর করেই কর ছাড় সুবিধা দেওয়া উচিত, যাতে পেটেন্টের মাধ্যমে সরকার উপকৃত হয়। বর্তমানে রাজস্ব নীতিকে ঐতিহ্যবাহী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এটি নতুন প্রজন্মের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও পরিকল্পিত বাজেট বাস্তবায়ন আবশ্যক।’

অনুষ্ঠানে বিভাগের ২১ প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিইউবিটির প্রভাষক সুহানা ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *