কোন হিসেবই মিলছেনা

প্রায় তিন যুগ! নির্মোহ অতীত।
তোমার জন্য বড় আফসোস হচ্ছে।
স্মৃতির আয়নাটা মেলে ধরে মুহূর্তেই
সমগ্র জীবনের প্রতিচ্ছবি, পথচলা
অতিক্রান্ত রাত ও দিন সবই দেখে নিলাম।
হিসাবটা ঠিক মিলছেনা।
এমুহূর্তে চোখে জলের আনাগোনা।
কোন হিসেবই মিলছেনা।
বাল্যজীবন, কৈশোর জীবন, তারুণ্য ও যৌবন
সব মিলিয়ে ছন্নছাড়া একটা হিসেব
আজ পাচ্ছি।
দিব্বি দেখতে পাচ্ছি, ছোট সময় পাড়ার ছেলে মেয়েদের
সাথে কানামাছি, বৌছি, দাঁড়িয়াবান্দা, গুল্ডাছি খেলেছি।
স্বহস্তে ঘুড়ি বানিয়ে উড়িয়েছি।
নামার বন্দে আমাদের একসময় অনেক জমি ছিল!
বাঘ মামার গল্প শুনতে শুনতে
সরিষা গাছ তুলতাম
জোগাল বেঁধে ধান লাগাতো তা দেখতাম।
ওহ্ অতীত তুমি এখন শুধুই অতীত,
নির্মোহ!
আমাকে এখন বড্ড একা একা লাগে।
কত বন্ধুরা স্থানে স্থানে ছিল,
এখন নতুন সব বন্ধু তাদের জায়গা
দখল করে নিয়েছে।
পুরাতন বা অতীত চেনাদের নিকট আমি এখন
খুব স্বার্থপর।
তাদের সাথে কোন যোগাযোগ নেই।
কৈশোরে বাদলা দিনে খুব মজা করতাম।
বৃষ্টি স্নান অহরহ হতো, বৈশাখে বৃষ্টিতে ভিজে
আম কুড়াতাম।
আমাদের অনেক বড় একটা আমগাছ ছিল।
আমার মনে পড়ছে কে যেন একজন গাছের ডাল
ভেঙ্গে পড়ে গিয়েছিল।
অনেক সুস্বাদু ছিল খেতে ঐ গাছের আম।
মাদ্রাসায় যখন পড়তাম(০-দ্বাদশ)
আমি খুব নরম প্রকৃতির ছিলাম, কখনো
ঝগড়ায় যেতামনা, এখনো যাইনা।
তথাপি আমাদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।
বেঞ্চে বসা নিয়ে দুএকজনের খুব হিংসা হতো।
ক্লাশের স্যার শুধু আমার দিকে তাকিয়ে
পড়াতেন বলে খুব হিংসা হতো অনেকের।
আমি পড়ালেখায় খুব মনোযোগী ছিলাম।
শিক্ষকরা আমাকে খুব আদর করতেন।
আমি বড্ড ক্লাশ প্রিয় ছিলাম, শেষ ঘন্টাটা আমাকে
করাতেই হতো।
নীচ থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত।
একসময় জায়গীর প্রথার খুব প্রচলন ছিল।
আমাদের কম করে হলেও আমি ১০ জন জায়গীর
পেয়েছি, তারা নিজেরা পড়ত ও আমাদের পড়াত।
আমিও স্নাতক(সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেছি
জায়গীর থেকে।
ময়মনসিংহ সেতো অনেক স্মৃতির শহর।
আগেই বলেছি নরম প্রকৃতির ছিলাম বলে কখনো
ঝোপ ঝামেলার ধারে কাছে যায়নি।
একদিন ইতিহাস সেমিনারে বসে দুর থেকে
মাঠে ফুটবল খেলা দেখছিলাম।
জিএস রাসেলও আমাদের সেমিনারে
বসে খেলা দেখল, তার সাথে কথা কাটাকাটি হলো।
পরে অবশ্য সে আমাকে খুব ভালবাসত।
আজ খুব একা একা লাগছে,
জীবনের হালখাতা নিয়ে বসেছি মনে হয়।
কই কি পেলাম?
গতরাতে একটা কথা শুনে নিজেকে অসহায় বোধ হলো,
স্বার্থপর না হলে জীবনে কিছুই করা যায়না।
সত্যি কি তাই!
যারা সফল তারা কি সবাই স্বার্থপর?
বড্ড একা একা লাগছে…একেবারে সঙ্গীহীন।
আবারো চোখে জলের ছলছলানি।
কোন হিসেবই মিলছেনা!
জীবনটা কেমনে কেমনে অনেক বড় হয়ে গেল!
কেমনে কেমনে পাড় করে দিলাম,
অতঃপর কেন আজো আমি একা?
এর কোন সদুত্তর নেই আমার কাছে
অথবা কারো কাছে!!

মোঃ খাইরুল ইসলাম
গাজীপুর, ৪ঠা মে ২০১৭ খ্রি:
সকাল।
উৎসর্গ: আমার অতীতের সকল বন্ধুদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *