statistics

রসায়ন পরিচিতি

প্রশ্নোত্তর বিভাগরসায়ন পরিচিতি
mahim420 Staff asked 3 months ago

রসায়ন পরিচিতি(Introduction To chemistry )

বিজ্ঞানের একটি শাখা হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। যুক্তি দিয়ে, পর্যবেক্ষণ করে অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কোনো বিষয় সম্বন্ধে বোঝা বা তার ব্যাখ্যা দেওয়া বা সে সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বানী করাই হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ। রসায়ন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম, পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়। যেমন: কয়লা একটি পদার্থ, গলার ভেতরে রয়েছে কার্বন। এখানে কয়লার ভেতরে কার্বন পরমাণু কিভাবে থাকে আবার কয়লা পোড়ালে কয়লা বাতাসে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কিভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং তাপ উৎপন্ন করে এ ধরনের আলোচনাগুলো রসায়নে করা হয়। পদার্থ তা জীব হোক আর ঝড় হোক সবকিছুই রসায়নের আলোচনার বিষয়। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, অণুজীববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান ইত্যাদি শাখা আছে। তুমি যে খাবার খাচ্ছো তার মধ্যে কি কি পার্থক্য আছে বাতা কিভাবে আছে(পদার্থের গঠন) সেটি রসায়নের বিষয়। আবার, তোমার অনেক সাধের সাইকেলটিও যেটা কেনার সময় অনেক সুন্দর ছিল, কিছুদিন পরে সাইকেলের যেসব অংশ লোহার তৈরি ছিল তার কথাও কেন মরিচা পড়ে গেছে এগুলো রসায়নের বিষয়। এ বিশ্ব যখন সৃষ্টি হয়েছিল তখন থেকেই রসায়নের যাত্রা শুরু। তবে সম্ভবত প্রথম যেদিন দুটি পাথরকে ঘষে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখলো সে সময় থেকেই এই রসায়ন এর উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে। এরপর প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই ধাতু নিষ্কাশন, মাটি পুড়িয়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি, বিভিন্ন গাছের নির্যাস থেকে ঔষধ আর সুগন্ধি জাতীয় দ্রব্য তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে মানুষ রসায়নের ব্যবহার করে আসছে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম ব্যবহৃত ধাতু হলো সোনা। এছাড়া সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ তামা বা কপার, রুপা, টিন এসব ধাতু ব্যবহার করছে।

খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে কপার টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে এবং এ দুটি তরল কে একত্রে মিশিয়ে অতঃপর মিশ্রণকে ঠান্ডা করে কঠিন শংকর ধাতুতে পরিণত করা হয়। এ সংকর ধাতুর নাম ব্রোঞ্জ। এ ব্রোঞ্জ দিয়ে ভালো মানের অস্ত্র তৈরি করা হতো। তখনকার মানুষ পশু শিকার, ফসল ফলানো, জ্বালানি হিসেবে কাঠ সংগ্রহ সহ প্রয়োজনীয় অনেক কাজে এই অস্ত্র ব্যবহার করত। এ ব্রোঞ্জ তখনকার মানবজাতির জন্য এক অতি প্রয়োজনীয় পদার্থে পরিণত হয়।ব্রোঞ্জ এর আবিষ্কার মানব সভ্যতাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়।

প্রাচীনকালের দার্শনিকেরা পদার্থের গঠন নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করেন। খ্রিস্টপূর্ব 380 অব্দের দিকে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঘোষণা করেন যে, প্রত্যেক পদার্থকে ভাঙতে থাকলে শেষ করা যায় এমন 1000 না পাওয়া যাবে যাকে আর ভাঙ্গা যাবে না। তিনি এর নাম দেন Atom বা অবিভাজ্য। প্রায় একই সময়ে ভারতীয় কোনো কোনো দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের মতো প্রায় একই ধারণা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এ ধারণা গুলো কোন পরীক্ষামূলক ভিত্তি ছিল না। অ্যারিস্টটল এ ধারণার বিরোধিতা করেন। তখন অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা মনে করতেন সকল পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ওবাতাস মিলে তৈরি হয়। ফলে এটমের ধারণা অনেকদিন পর্যন্ত মানুষ গ্রহণ করেনি। মধ্য যুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ কপার, টিন ,সিসা এসব স্বল্পমূল্যের ধাতু থেকে সোনা তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলেন। তাদের আরেকটি চেষ্টা ছিল এমন একটি মহৌষধ তৈরি করা, যা খেলে মানুষের আয়ু অনেক বেড়ে যাবে। তারা অবশ্য এগুলোতেও সফল হননি। তবে তারা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। ফলে সোনা বানাতে না পারলেও বিভিন্ন পদার্থ মিশে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন এবং তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা গুলো লিখে রেখেছিলেন। মূলত এগুলোই ছিল রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রওশনের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা। মধ্যযুগীয় আরবের রসায়নের চর্চাকে আলকেমি বলা হতো আর গবেষকদের বলা হত আলকেমিস্ট। আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। কাল কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন। আলকেমিস্ট জাবির ইবনে হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন। তাই তাকে কখনো কখনো রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে। জাবির ইবনে হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তাই তিনি গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্য গুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবন করে রসায়নের চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টন সহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। অ্যান্টোনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।

নিচে কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়া হলো::

১: রসায়ন কাকে বলে???
=বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।

২: কাঁচা আম খেতে টক লাগে কেন ??
= কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে যেমন: সাক্সনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, ফলে কাঁচা আম টক।

৩: পাকা আম খেতে মিষ্টি লাগে কেন?
= আম যখন পাকে তখন এই এসিড গুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়। তাই পাকা মিষ্টি।
ইত্যাদি।

ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আরও কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর দেওয়া হবে। ধন্যবাদ সবাইকে। ভালো থাকবেন।

নতুন বিকাশ এপ ইন্সটল করলেই পাচ্ছেন ১৫০ টাকা বোনাস। বিকাশ এপ ইন্সটল করুন
নিজ এলাকায় পছন্দের চাকরি খুঁজে পেতে গুগল পরিচালিত কর্ম এপ ইন্সটল করুন

পোষ্টটি লিখেছেন: mahim420

এই ব্লগে এটাই Mahim Chowdhury এর প্রথম পোষ্ট.