statistics

অভিশপ্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে (২০০৯-১০) শিক্ষা বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থা নিয়ে কেউ ভাবার সময় পায়না। একের পর এক নতুন পদ্ধতি আর সিলেবাসের ধাক্কায় পিষ্ঠ করা হচ্ছে ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থীদের। যখন মন চাচ্ছে তখন এক ধরনের নতুন রেগুলেশন। আমাদেরকে নিয়ে মনে হয় খেলা করা হচ্ছে। Mujakkir

নতুন কলেজে ভর্তি হতেই ২০১০ সালে গ্রেডিং পদ্ধতির এক চমক নিয়ে আসলো। ভালো একটি পদ্ধতি, চমৎকার পদ্ধতি। ৫০ মার্কের পরীক্ষার পরিবর্তে হল ১০০ মার্কের পরীক্ষা যা অবশ্যই হজম করতে হবে ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থীদের। এটাও একটি নতুন রেগুলেশনের বৈশিষ্ট।

পুরাতন পদ্ধতির নির্ধারিত ১ম বর্ষের সাবজেক্টের অধ্যায় ও সংযোজিত হল আরও নতুন সাবজেক্টের বিশালতা। নতুন সিলেবাসের আকার আরও বড় করা হল। ফলে কোন লাইব্রেরীতে বইয়ের কোন পাত্তা পাওয়া গেলনা। বোধহয় কোন বই লেখক ভয় পেতেন যদি বই লেখার পর আবার সিলেবাস পরিবর্তন হয়।

নতুন বই আসতেছে/আইতেছে করতে করতে ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন এসে হাজির। তখন তো ৫০ মার্কের পড়ালেখা করলে হবেনা, ১০০ মার্কের পড়া-লেখা করতে হবে। যা এই সীমিত সময়ের মধ্যে করা আর সম্ভব নয়। লাইব্রেরীতে যখন বই আসলো তখন ফাইনাল পরীক্ষার ১/২ মাস বাকী। তখন এই সীমিত সময়ের মধ্যে হতবাক ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থীরা কি করবে? ভাল ফলাফল করা কি সম্ভব? আমাদের ভাল ফলাফলের স্বপ্নগুলো নতুন পদ্ধতির রেগুলেশনের মাধ্যমে ভেঙ্গে যেতে শুরু করে।

২য় বর্ষে পদার্পন করে দেখি (অর্থনীতি সম্মান ২০০৯-১০ সেশন এর আলোকে) আবার নতুন একটি সিলেবাস !! বাহ! চমৎকার একটি সাবজেক্টের আয়োজন মনে হয় ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থীরা “সবজান্তা” যা সাবজেক্ট দেওয়া হয় তাই হিফজ করতে পারে আমাদের অর্থনীতি ২য় বর্ষেও সিলেবাসে এক অদ্ভূধ একটি সাবজেক্ট দেওয়া হল public finance and accounting(in English) । বলুনতো এই সাবজেক্ট আসলে কোথা থেকে আসলো? এর হদীস আগে ছিলনা। এই সাবজেক্টে accounting যারা পড়ে তাদের জন্য। এখন যারা অর্থনীতিতে অনার্স নিল তারা বিভিন্ন বিভাগ থেকে এসেছে, তখন এই সাবজেক্ট নিয়ে তারা কি করবে? হতাশা আর হতাশা। accounting ও finance এর মৌলিক জ্ঞান যাদের নেই তারা কি করে ১০০ মার্কের এই public finance and accountiing(in English) পরীক্ষা দিবে?

আবার সিলেবাসে (In English ) লেখা ছিল যা পরীক্ষা প্রশ্নের মাধ্যমে বাংলায় লেখা হালাল ছিল। এমন কি স্যার’রাও এই বিষয়ে অবগত ছিলেননা। অনেক শিক্ষার্থীরা এই বিষয় ভাল করে আয়ত্ব করতে না পারার জন্য ফলাফলে বিরাট ধস নামল অনার্স ২য় বর্ষে । আমরা এক অভিশপ্ত সেশনে আছি মনে হয়। আবার ইম্প্রূভের ব্যবস্তা করতে হয়। নতুন করে ফর্ম ফিলাপ, ফর্ম ফিলাপের টাকা যোগাড় করতে অনেক মধ্যবিত্য শিক্ষার্থীদের হিমশিম খেতে হয়।

৩য় বর্ষে উঠার পর শুরু হল আরেকটি পদ্ধতি কি বুঝলেন? এই সেশনকে তারা “নতুন রেগুলেশন পদ্ধতির” সেশন হিসাবে বোধহয় মনোনীত করে ফেলেছে। এক সেশন জট, চাকরীতে বয়সের সীমাবদ্ধতা সবকিছু যেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীরা ভোগ করতেই হবে। এ যেন নিয়তির এক দারুন খেলা। ৩য় বর্ষের নতুন আরো একটি রেগুলেশন করা হল। নতুন একটি পদ্ধতি “ইনকোর্স পরীক্ষা” এই পদ্ধতিটা তেমন মন্দ ছিলনা, তবে কেন এই পদ্ধতিটা ১ম বর্ষে চালু করা হলনা?

২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র- ছাত্রীদের কেন একটির পর একটি সাফার করতে হবে। ১৫ মার্কের পরীক্ষা নিজ কলেজে ৫ মার্ক ক্লাসে উপস্থিতির উপর এবং ৮০ মার্কের জন্য চার ঘন্টা ফাইনালে পরীক্ষা দিতে হবে। পদ্ধতিটা অনেক ভাল কিন্তু হঠাৎ হটাৎ এরকম সিলেবাস পরিবর্তন করা ঠিক নয়, যা আমাদের মত ছাত্র- ছাত্রীদের অনেক ক্ষতি হয়। কে এই কারিগর যে বারংবার নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের মত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পড়ূয়া ছাত্র-ছাত্রীদেও জ্বালাতন করা হচ্ছে।

২০০৯-১০ সেশনের ছাত্র-ছাত্রীরা কি একটা “টেস্ট সেশন ” আমাদেরকে দিয়ে কি টেস্ট করা হচ্ছে? ২০০৯-১০ সেশন সর্বপ্রথম গ্রেডিং পদ্ধতি করা হলো, সিলেবাসের নতুনত্ব আনা হল । এরকম পদ্ধতি হঠাৎ চালু করার জন্য অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যে অমূল্য ক্ষতি হল তার সমাধান কে দিবে?

এক সেশন জট তার উপর এরকম সিলেবাসের অশুভ সংযোজন যা কখনও কাম্য হতে পারেনা। আমি সম্মান অর্থনীতির আলোকে এসব ক্ষোভ প্রকশ করলাম। না জানি অন্যান্য বিষয়ের ২০০৯-১০ সেশনের অনার্স পড়–য়া ছাত্র- ছাত্রীদের কি অবস্থা। আমাদের বাঁচান আমাদের রক্ষা করুন। এই ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থীদের নর্দমায় ফেলে দিবেন না । জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ভাবুন তাহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন থাকবে।

মোঃ মোজাক্কির হোসেন সিদ্দিকি

অর্থনীতি অনার্স, ৪র্থ বর্ষ (২০০৯-১০)

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার

পোষ্টটি লিখেছেন: মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী

মুজাক্কির হোসাইন সিদ্দিকী এই ব্লগে 9 টি পোষ্ট লিখেছেন .

তিনি বর্তমানে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে মাষ্টার্স করছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।

One comment

  1. মোস্তাক আহম্মেদ খাঁন

    ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৪র্থ বর্ষ,আমার অবস্থা ও একই ।আমাদের ২০০৯-১০ শিক্ষা বর্ষের সকলের একটা ব্যবস্থা করেন প্লীজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.